দিনের ব্রেক-ইভেন: দোকান বন্ধের সময় যে একটা সংখ্যা মিলিয়ে নেবেন
ভাড়া, বেতন আর বিল তুলতে আপনার দোকানে প্রতিদিন কত বিক্রি করতেই হবে? মাসের নির্দিষ্ট খরচ যোগ করুন, খোলা দিনের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করুন, তারপর গড় মার্জিন দিয়ে ভাগ করুন। একটা বানানো উদাহরণে সেটা দিনে ৳১৮,০০০। সংখ্যাটা ড্রয়ারের ভেতরে লিখে রাখুন, প্রতিদিন দোকান বন্ধের সময় মিলিয়ে নিন, পুরো সপ্তাহটা দেখুন, আর কোনো খরচ বদলালে নতুন করে হিসাব করুন।

রাত ১০টা, আপনি শাটার নামাচ্ছেন। সারাদিন ব্যস্ত গেছে মনে হলো। ড্রয়ার ভরা দেখাচ্ছে, কয়েকটা bKash পেমেন্টও এসেছে।
কিন্তু আজকের দিনটা কি আসলেই ভালো গেল, নাকি শুধু ভালো মনে হলো?
বেশিরভাগ মালিক এই প্রশ্নের উত্তর দেন আন্দাজে। এর চেয়ে সহজ একটা উপায় আছে: মাসে একবার হিসাব করা একটা সংখ্যা, যা বলে দেয় ভাড়া, বেতন আর বিল তুলতে প্রতিদিন কত টাকা বিক্রি করতেই হবে। এই সংখ্যাটাই আপনার দিনের ব্রেক-ইভেন।
এর নিচে থাকলে দিনটার খরচ আয়ের চেয়ে বেশি। এর ওপরে গেলে দিনটায় আয় হলো।
ব্যস্ত দিনও কেন লসের দিন হতে পারে
বিক্রি মানেই লাভ নয়। ৳১,০০০ এর মাল বেচলে তার বেশিরভাগটাই সাপ্লায়ারের কাছে ফিরে যায়। আপনার কাছে থাকে শুধু মার্জিন, মানে মাল কত দিয়ে কিনেছেন আর কত দিয়ে বেচলেন, তার ফারাক (সবচেয়ে বেশি বিক্রির মালটাই হয়তো সবচেয়ে বেশি লাভের মাল নয়)।
ভাড়া, বেতন আর বিল যায় ওই মার্জিন থেকে, মোট বিক্রি থেকে নয়। তাই দোকান বন্ধের সময় আসল প্রশ্ন "আজ কত বিক্রি হলো?" নয়, বরং "আজকের মার্জিন কি আজকের ভাগের নির্দিষ্ট খরচটা তুলতে পেরেছে?"
বানানো গোল অঙ্কে একটা উদাহরণ। ধরুন আপনার দোকানের মাসিক নির্দিষ্ট খরচ এরকম:
- দোকান ভাড়া: ৳২৫,০০০
- দুইজন স্টাফ, প্রত্যেকে ৳১২,০০০: ৳২৪,০০০
- বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, ফোন আর অন্যান্য বিল: ৳৬,০০০
- লোনের কিস্তি (EMI): ৳১০,০০০
- ঈদ বোনাসের জন্য আলাদা করে রাখা: ৳৪,০০০ (দুই ঈদে প্রত্যেক স্টাফকে এক মাসের বেতন দিলে বছরে ৳৪৮,০০০, তাই প্রতি মাসে ৳৪,০০০ সরিয়ে রাখুন)
- ছোটখাটো মেরামত আর টুকটাক খরচ: ৳১,০০০
মোট মাসে ৳৭০,০০০। দোকান মাসে ২৬ দিন খোলা থাকলে প্রতিদিনকে প্রায় ৳২,৭০০ নির্দিষ্ট খরচ বহন করতে হয়।
এবার মার্জিন। ধরুন সব মাল মিলিয়ে আপনার কাছে থাকে প্রায় ১৫ শতাংশ। ৳২,৭০০ মার্জিন পেতে হলে বিক্রি করতে হবে ৳২,৭০০ কে ০.১৫ দিয়ে ভাগ করলে যা হয়, মানে ৳১৮,০০০।
তাহলে এই উদাহরণে দিনের ব্রেক-ইভেন ৳১৮,০০০। ৳১৫,০০০ বিক্রি হলে মার্জিন প্রায় ৳২,২৫০, মানে প্রায় ৳৪৫০ কম। ৳২২,০০০ বিক্রি হলে মার্জিন প্রায় ৳৩,৩০০, মানে লাইনের প্রায় ৳৬০০ ওপরে।
ডিসকাউন্টের দিকে খেয়াল রাখুন। বেশি অফার দিতে গিয়ে গড় মার্জিন ১২ শতাংশে নেমে গেলে একই খরচ তুলতে দিনে লাগবে প্রায় ৳২২,৫০০। ভিড় বাড়ে, কিন্তু লক্ষ্য আরও কঠিন হয়।
সংখ্যাটা সৎ রাখার পাঁচটা অভ্যাস
একটা কাগজ আর দোকান বন্ধের সময় পাঁচ মিনিট।
১. মাসের সব নির্দিষ্ট খরচ একটা তালিকায় লিখুন।
ভাড়া, বেতন, বিল, কিস্তি। তারপর যেসব খরচ বছরে কয়েকবার আসে, যেমন ঈদ বোনাস, বছরের নবায়ন বা ফ্রিজ মেরামত: এগুলো ১২ দিয়ে ভাগ করে প্রতি মাসে যোগ করুন। দোকান থেকে নেওয়া টাকায় যদি আপনার সংসার চলে, সেই টাকাটাও যোগ করুন। নাহলে দোকান "ব্রেক-ইভেন" করবে, আর খরচটা টানবে আপনার পরিবার।
২. আসল গড় মার্জিন ধরুন, আশার মার্জিন নয়।
একটা স্বাভাবিক মাস বেছে নিন। যে মাল বিক্রি হয়েছে তার জন্য সাপ্লায়ারকে কত দিয়েছেন আর কত দিয়ে বেচেছেন, মিলিয়ে দেখুন। কেনার মেমো থেকে মোটামুটি একটা হিসাবও আন্দাজের চেয়ে ভালো। চাল বা তেলের মতো কম মার্জিনের মাল গড় নামিয়ে দেয়, তাই সৎ থাকুন।
৩. যেখানে হিসাব মেলান, সেখানে সংখ্যাটা লিখে রাখুন।
ক্যাশ বইয়ের প্রথম পাতায়, বা ড্রয়ারের ভেতরে লাগানো একটা কার্ডে: "দিনের টার্গেট: ৳১৮,০০০।" প্রতি রাতে সংখ্যাটা চোখের সামনে থাকলে আন্দাজ করা বন্ধ হয়ে যায়।
৪. প্রতিদিন দোকান বন্ধের সময় মিলিয়ে নিন।
ক্যাশ, bKash আর Nagad গুনুন, দিনের বাকি বিক্রি যোগ করুন, আর মোটটা টার্গেটের পাশে লিখুন। ওপরে না নিচে, দাগ দিয়ে রাখুন। আগে ড্রয়ারটা ঠিকমতো গুনে নিন (ড্রয়ারের নোট মানেই ব্যাংকের টাকা নয়)।
৫. পুরো সপ্তাহটা দেখুন, আর প্রতি মাসে সংখ্যাটা নতুন করে হিসাব করুন।
একটা ধীর মঙ্গলবারে কিছু যায় আসে না। সপ্তাহে চার দিন টার্গেটের নিচে থাকলে সেটা কিছু বলছে। মাস শেষে হিসাব মেলানোর সময় (মাস শেষের সহজ হিসাব) তালিকাটা আবার দেখুন। ভাড়া বাড়লে বা কোনো লোন শেষ হলে সেদিনই নতুন সংখ্যাটা বের করুন।
এটা কী নয়
এটা লাভ নয়। ব্রেক-ইভেনে পৌঁছানো মানে দিনটা শুধু নিজের খরচ তুলেছে। আয় শুরু হয় লাইনের ওপরে।
এটা ক্যাশও নয়। বাকি বিক্রি টার্গেটে ধরা হয়, কিন্তু কাস্টমার টাকা না দেওয়া পর্যন্ত সেটা আপনার হাতে নেই (বাকি বিক্রি যা আর ফেরত আসে না)।
এটা আপনার পুরো হিসাবের খাতা নয়, শুধু প্রতিদিনের সিদ্ধান্তের জন্য একটা মোটামুটি সংখ্যা (এক দোকানে আসল অ্যাকাউন্টিং মানে কী)। আর একটা খারাপ দিনে ঘাবড়ে যাওয়ার কারণও এটা নয়। উদাহরণটা শুধু ধরনটা বোঝার জন্য, তারপর নিজের অঙ্ক দিয়ে হিসাবটা করুন।
Soft close
বিক্রি, মার্জিন আর খরচ যখন এক জায়গায় থাকে, তখন দিনের ব্রেক-ইভেন আর মেমোর পেছনে করা কোনো অঙ্ক থাকে না, দোকান বন্ধের সময় চোখের সামনে একটা লাইন হয়ে যায়। ERP71 এর মতো টুল এই ধরনের এক দোকানের স্পষ্টতার জন্যই বানানো: আজ কী বিক্রি হলো, কত থাকল, আর লাইন থেকে আপনি কত দূরে।
এই সপ্তাহেই শুরু করুন। নির্দিষ্ট খরচের তালিকাটা বানান, আজ রাতেই আপনার সংখ্যাটা বের করুন, আর ড্রয়ারের ভেতরে লিখে রাখুন। সাত দিন প্রতিবার দোকান বন্ধের সময় মিলিয়ে দেখুন। এক সপ্তাহের সৎ হিসাব এক বছরের আন্দাজের চেয়ে বেশি কিছু বলে দেবে।
নিজের দোকানের হিসাব দিয়েই দেখে নিন। WhatsApp এ ১৫ মিনিটের ফ্রি ডেমো নিন: https://app.erp71.com/s/sn3f43